
অ্যালকোহল, অতিরিক্ত কফি বা সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলুন
বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গরমের তীব্রতা থাকে। এই সময়ে ঘাম ও তাপমাত্রার কারণে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং হজমের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। বিশেষ করে হিট স্ট্রোকের মতো জীবনঘাতী ঝুঁকি এড়াতে এই সময়ে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি।
গরমে সুস্থ থাকার টিপস নিয়ে আমাদের আজকের বিশেষ আয়োজন
গরমে যে তিন ধরনের সমস্যা বেশি হতে পারে

হিট ক্র্যাম্প: পেশিতে টান লাগা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি। এটি বড় বিপদের প্রাথমিক সংকেত।
হিট এক্সহস্টশন: শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, জ্বর আসা এবং বমি বমি ভাব।
হিট স্ট্রোক: এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। লক্ষণ হলো শুকনো চামড়া, শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। এমন হলে দ্রুত রোগীকে ছায়ায় নিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন
পিপাসা লাগার অপেক্ষা করবেন না। পিপাসা পাওয়া মানেই শরীর ইতিমধ্যে ১৫% পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও আখের রস এ সময়ের আদর্শ পানীয়।
তরমুজ, আম, আঙুর ও কমলার মতো ফল শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখে।
হালকা রঙের পাতলা সুতির কাপড় পরুন। এতে শরীরে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ঘাম দ্রুত শুকায়।
গ্রীষ্মে দিন বড় ও রাত ছোট হওয়ায় দুপুরে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়া শরীরের জন্য ভালো।
বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন। গলার পেছনে ভেজা কাপড় রাখলে শরীর দ্রুত ঠাণ্ডা হয়।

বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন
যা বর্জন করা জরুরি
অ্যালকোহল, অতিরিক্ত কফি বা সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলুন। এগুলো শরীরকে আরও বেশি পানিশূন্য করে দেয়।
অতিরিক্ত ঝাল, নোনতা, টক ও তেলযুক্ত খাবার খাবেন না। হালকা ও কম মসলার খাবার হজমে সহায়তা করে।
সিনথেটিক বা আঁটসাঁট কাপড় পরবেন না। সরাসরি রোদে কঠিন পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।
অতিরিক্ত গরমে রান্না এড়িয়ে চলাই ভালো। রান্না করলে জানালা খুলে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
এক বছরের কম শিশুকে মধু দেবেন না এবং শিশু বা পোষা প্রাণীকে কখনোই বন্ধ গাড়িতে রেখে যাবেন না।
বিশেষ সতর্কতা
আপনার শরীর কতটা হাইড্রেটেড তা বোঝার সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রঙ। প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর লক্ষ্য করুন। রঙ হালকা হলুদ হওয়া ভালো। যদি রঙ গাঢ় হলুদ বা কমলা হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীর মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভুগছে।
তীব্র গরমে শরীরকে খাপ খাইয়ে নিতে সময় দিন এবং ধীরে ধীরে কাজ করুন। অসুস্থ বোধ করলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। সচেতনতাই পারে আপনাকে এই অসহনীয় গরমে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প