
ফাইল ছবি
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য কার্যকর করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে নতুন এই দরে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে।
সরকারের নতুন দর অনুযায়ী, আজ থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর শনিবার রাত থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি দেখা যায়। রাত ১১টার দিকে তেজগাঁও ও মহাখালী এলাকার বেশ কিছু পাম্পে ‘তেল নেই’ অজুহাতে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় অস্থিরতা তৈরি হয়।
বিশেষ করে তেজগাঁওয়ের সাউদান পাম্পে বিড়ম্বনাপূর্ণ চিত্র দেখা যায়; মাত্র ১০ মিনিটের নোটিশে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ। পরে জনরোষের মুখে তারা পুনরায় সরবরাহ শুরু করতে বাধ্য হয়।
নতুন দামে তেল কিনতে আসা মানুষের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আকিব নামে এক মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একবারে ২০ টাকা বাড়ানো ঠিক হয়নি, এতে গণপরিবহনসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে।”
আবার অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তেলের মজুত নিয়ে। ফরহাদ নামে এক ক্রেতা বলেন, “প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন দেশে সর্বোচ্চ মজুত আছে, তাহলে এই বাড়তি টাকার সুফল কি মজুতদাররা পাবে?”
তবে ভিন্ন মতও আছে। নোমান নামে এক চালকের মতে, “দাম বাড়ানোর ফলে পাম্পে দীর্ঘ লাইন কমবে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।”
এদিকে সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে পাম্প মালিক সমিতি। সমিতির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ এক বার্তায় জানান, বিশ্ববাজারের সঙ্গে এই সমন্বয় মজুত করার প্রবণতা কমাবে এবং বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনবে।
দীর্ঘ ভোগান্তির পর আজ সকাল থেকে নতুন দামে তেল বিক্রি শুরু হওয়ায় পাম্পগুলোর ভিড় কিছুটা কমেছে। তবে সাধারণ ভোক্তাদের মতে, বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে সরকারের কঠোর তদারকি প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, দাম বাড়ার পর এখন অন্তত পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।