
নিহত আলমগীর হোসেন
সংসারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সুদূর প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আলমগীর হোসেন (২৮)। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর সেই স্বপ্ন আর জীবনের পথ দুই-ই থামিয়ে দিল।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ শহরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে গাড়ি চাপায় নিহত হন তিনি। নিহত আলমগীর কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বাট্টা গ্রামের মো. রমজান আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে ‘আল লিয়ান’ কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ নিয়ে সৌদি আরবে যান আলমগীর। শনিবার সকালে বাসা থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাঁকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সুপারভাইজার ও ফোরম্যান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আলমগীরের পরিবারকে এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেন।

একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে আলমগীরের গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা-মা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আলমগীরের ছোট ভাই মো. রুবেল বলেন, “ফোরম্যান আমাদের ফোন করে বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। এখন আমাদের একমাত্র চাওয়া, সরকার যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।”
নিহত আলমগীরের স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা দুর্ঘটনাসংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন, যাতে এই অসহায় পরিবারটি ভবিষ্যতে টিকে থাকার অবলম্বন খুঁজে পায়।