
একটি রোবট মেশিনগান নিয়ে টানা ৪৫ দিন একটি অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে বলে দাবি করা হয়েছে
যুদ্ধের দৃশ্যটি চিরচেনা—দুই সৈন্য হাত উঁচু করে আত্মসমর্পণ করছে। তবে এবার তাদের সামনে কোনো মানুষ নয়, বরং ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত স্থলভিত্তিক রোবট ও ড্রোন।
ইউক্রেনের এক সামরিক ইউনিটের কমান্ডার মাইকোলা “মাকার” জিনকেভিচ জানান, গত গ্রীষ্মে পরিচালিত এক অভিযানে কোনো গুলি ছোড়া ছাড়াই শত্রুপক্ষের একটি অবস্থান দখল করা হয় এবং বন্দি করা হয়—সবই রোবট ও ড্রোনের মাধ্যমে, মানবসেনা ছাড়াই। তিনি এটিকে যুদ্ধের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইউক্রেনে যুদ্ধের শুরু থেকেই আকাশে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে। এর ফলে স্থলযুদ্ধে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটি এখন চাকা বা ট্র্যাকচালিত রিমোট-কন্ট্রোলড স্থল রোবট ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। শুরুতে এসব প্রযুক্তি আহতদের সরিয়ে নেওয়া বা সরবরাহ পৌঁছাতে ব্যবহৃত হলেও এখন তা সরাসরি হামলা চালাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থল রোবটগুলো বড় সামরিক যানবাহনের তুলনায় শনাক্ত করা কঠিন, সব আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম এবং বেশি ভার বহন করতে পারে। এমনকি একটি রোবট মেশিনগান নিয়ে টানা ৪৫ দিন একটি অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জিনকেভিচ বলেন, ‘আমাদের জনবল কখনোই শত্রুর চেয়ে বেশি হবে না। তাই প্রযুক্তির মাধ্যমেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’ তার মতে, চলতি বছর এক-তৃতীয়াংশ পদাতিক সেনার পরিবর্তে রোবট ও ড্রোন ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানান, গত তিন মাসে ২২ হাজারের বেশি মিশনে ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করা হয়েছে, যা হাজারো সৈন্যের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে।
ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের এক বিশেষজ্ঞ রবার্ট টোলাস্ট বলেন, এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করবে। যদিও তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র রোবট দিয়ে এলাকা দখল ও ধরে রাখা কঠিন, তবে আহত সরিয়ে নেওয়া, মাইন অপসারণ ও সরবরাহ পৌঁছানোর মতো কাজে এগুলো অত্যন্ত কার্যকর।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেন এখন ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আরও উন্নত স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে।
তবে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারে এখনো সতর্কতা রয়েছে। জিনকেভিচের মতে, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় মানুষেরই নেওয়া উচিত।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবন অমূল্য, কিন্তু রোবট রক্ত ঝরায় না। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো উচিত।’
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল