
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চলে আসা শান্তিবাদী নীতির বাইরে ধীরে ধীরে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে জাপান
কয়েক দশকের মধ্যে জাপান তাদের প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতিতে সবচেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঘোষিত এই সিদ্ধান্তের ফলে যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বিদেশে বিক্রির পথ খুলে গেল।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জাপান তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে চায় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চলে আসা শান্তিবাদী নীতির বাইরে ধীরে ধীরে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আগে জাপান মূলত উদ্ধার, পরিবহন, নজরদারি বা মাইন অপসারণের মতো সীমিত সরঞ্জামই রপ্তানি করতে পারত। এখন সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি রপ্তানি চুক্তি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।

তবে কিছু নিয়ম এখনো থাকবে—যেমন: কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া। তৃতীয় দেশে পুনরায় হস্তান্তরের ওপর নিয়ন্ত্রণ। যুদ্ধরত দেশে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা। যদিও সরকার বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে ব্যতিক্রম করা হতে পারে।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনে চাপ বেড়েছে। ফলে জাপানের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশ এখন বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি আগের মতো স্থিতিশীল নাও থাকতে পারে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ‘এখন কোনো দেশ একা নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তাই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
পোল্যান্ড থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত বেশ কিছু দেশ ইতোমধ্যে জাপানের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রথম চুক্তিগুলোর একটি হতে পারে ফিলিপাইনের কাছে ব্যবহৃত যুদ্ধজাহাজ বিক্রি।
তবে জাপান শুধু রপ্তানিই নয়, নিজের সামরিক শক্তিও বাড়াচ্ছে। চীনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তারা ক্ষেপণাস্ত্র, স্টেলথ যুদ্ধবিমান ও ড্রোন কিনছে। দেশটির বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানি মিতসুবিশি হেভি ইন্ড্রাস্টিজ সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম। তবে এতদিন তারা মূলত জাপানের স্ব-প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর নির্ভর করেই কাজ করেছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্য ও ইতালির সঙ্গে মিলে জাপান নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করছে, যা ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যবহার শুরু হতে পারে।
জাপান ইতোমধ্যে তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন নিরাপত্তা কৌশল ঘোষণার সময় এ বছর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা জানানো হবে।
সব মিলিয়ে, জাপানের এই সিদ্ধান্ত শুধু তাদের প্রতিরক্ষা নীতিতেই বড় পরিবর্তন নয়, বরং বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারেও নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে।