
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির দুঃসময় যেন কাটছেই না। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলভিয়নের বিপক্ষে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে ব্লুজরা। এই হারের ফলে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যে ক্ষীণ আশা ছিল, তা কার্যত শেষ হয়ে গেল লন্ডনের ক্লাবটির।
ম্যাচের শুরু থেকেই চেলসিকে চাপে রাখে স্বাগতিক ব্রাইটন। রক্ষণভাগ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটে লিড নেয় তারা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফেরদি কাদিওগলুর নেওয়া একটি জোরালো শট চেলসির ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। গোলরক্ষক বলের লাইনে থাকলেও ডিফ্লেকশনের কারণে কিছুই করার ছিল না তার। শুরুতে গোল খেয়ে চেলসি কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলে এবং প্রথমার্ধের বাকি সময়টা কেবল ব্রাইটনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়েই পার করে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও চেলসির রক্ষণভাগের দুর্বলতা প্রকট হয়ে ধরা দেয়। ৫৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাইটন। জর্জিনিও রুটারের নিখুঁত পাস খুঁজে নেয় জ্যাক হিনশেলউডকে, আর ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে চেলসির জাল কাঁপাতে ভুল করেননি এই তরুণ তুর্কি। ২-০ তে পিছিয়ে পড়ার পর চেলসি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মাঝমাঠ ও আক্রমণের ব্যর্থতায় ব্রাইটন গোলরক্ষককে তেমন কোনো পরীক্ষাই নিতে পারেনি।

ম্যাচের একদম শেষ দিকে চেলসির ম্যাচে ফেরার সব আশা শেষ করে দেন অভিজ্ঞ ড্যানি ওয়েলবেক। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে তিনি ব্রাইটনের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। তার এই গোলটি ছিল চেলসির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার মতো। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত চেলসি ম্যাচে ন্যূনতম কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি, যার ফলে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় লন্ডনের ক্লাবটিকে।
এই হারে পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের থেকে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে চেলসি। হাতে বাকি মাত্র কয়েকটি ম্যাচ। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার আশা এখন প্রায় শেষ।
অন্যদিকে, দারুণ এই জয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে ব্রাইটন এবং ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলার স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছে।