
ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে বইছে তীব্র দাবদাহ, আর এর মধ্যেই তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়ল রাজশাহী। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র এই গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ৩ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা ছিল এতদিন পর্যন্ত এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। কিন্তু আজ রাজশাহীর পারদ ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়ে সেই রেকর্ড ভেঙে দিল।
শুধু রাজশাহী নয়, আশপাশের জেলা পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াতেও মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ফলে পুরো অঞ্চলে জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাতেও মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রি বা তার বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। সে হিসাবে বুধবার রাজশাহীতে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় সারা দেশে প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় এবং গ্রামাঞ্চলে দিনের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, বৃষ্টিহীনতা এবং উচ্চ আর্দ্রতার কারণে তাপপ্রবাহের পরিধি ক্রমে বাড়ছে। গত সোমবার ৯টি জেলায় তাপপ্রবাহ থাকলেও আজ তা বেড়ে ২৪টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব ক’টি জেলা ছাড়াও ঢাকা, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, দিনাজপুর ও পার্বত্য জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই অসহনীয় পরিস্থিতি আগামী শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এমনকি আগামী দুই দিনে দেশের কোনো কোনো স্থানে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, আগামী শনিবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং রোববার থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। বৃষ্টি শুরু হলেই এই তীব্র দাবদাহ থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হতে পরামর্শ দিয়েছেন। একই সাথে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।