
সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও নতুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। জনগণের শক্তিশালী সমর্থন থাকলেও অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় রয়েছে। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) বৃহস্পতিবার ভোরে ‘বাংলাদেশের নতুন সরকার কাজে নেমে পড়েছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। ক্রাইসিস গ্রুপ একটি অলাভজনক বৈশ্বিক বেসরকারি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের পরের এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে দ্রুত অর্থনীতি, সুশাসন ও নিরাপত্তা খাতে সংস্কার শুরু করতে হবে। বিশেষ করে ইরান সংঘাতজনিত বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

আইসিজি আরও বলেছে, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং কার্যকর পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে। দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে বহাল রাখা বাস্তবসম্মত নয় বলে মত দিয়েছে সংস্থাটি। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও অতীত কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার ছাড়া দলটির রাজনীতিতে ফেরা কঠিন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং উগ্রবাদী ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়েও নতুন সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ক্রাইসিস গ্রুপ।