
ছবি: সংগৃহীত
ভৌগোলিক সীমানা আর ভাষার বাধা তুচ্ছ করে প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ছুটে এসেছেন এক যুবক। দীর্ঘ এক বছরের অনলাইন সম্পর্কের ইতি টেনে গত সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় তরুণী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন চীনা যুবক চেন বাও মিং (২৩)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বেহলা গ্রামের মধু মোল্লার মেয়ে তাসলিমা খাতুনের (২০) সঙ্গে চীনের গাতসু প্রদেশের বাসিন্দা চেন ইউয়ানঝির ছেলে চেন বাও মিংয়ের পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পেশায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী চেনের সঙ্গে এক বছরের আলাপচারিতায় তাসলিমার গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি দুই পরিবারকে জানালে তারা এতে সম্মতি দেয়। এরপর পরিবারের আশীর্বাদ নিয়েই গত সোমবার বাংলাদেশে পৌঁছান চেন বাও মিং। ওই দিনই কুষ্টিয়া আদালতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের আইনি বিবাহ (কোর্ট ম্যারেজ) সম্পন্ন হয়। বর্তমানে এই দম্পতি ভেড়ামারায় তাসলিমার বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

বিদেশি জামাই আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাসলিমার বাড়িতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। কেবল গ্রামবাসীই নয়, আশপাশের এলাকা থেকেও শত শত মানুষ চীনা এই যুবককে একনজর দেখতে আসছেন। এলাকাবাসীর মধ্যে এই বিয়ে নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল লক্ষ্য করা গেছে।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে তাসলিমা খাতুন বলেন, দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে এবং উভয় পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তিনি এই বিয়েতে অত্যন্ত খুশি।
অন্যদিকে চেন বাও মিং বলেন, পারিবারিক অবস্থা যেমনই হোক, তিনি তাসলিমাকে ভালোবাসেন। তার পরিবারকে তিনি দয়ালু ও বন্ধুসুলভ হিসেবে পেয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। শিগগিরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে স্ত্রীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।