
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বা ২১ দিনের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকের পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এই আলোচনাটি ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে চায় যাতে দেশটিকে হিজবুল্লাহর প্রভাব থেকে মুক্ত ও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার। উভয় প্রতিনিধিই ট্রাম্পের সরাসরি মধ্যস্থতাকে এই অঞ্চলের শান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত লেইটার জোর দিয়ে বলেন, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ক্ষতিকর প্রভাব সরিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই উভয় দেশ এখন কাজ করছে।

সংকট নিরসনে কেবল যুদ্ধবিরতিই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথে হাঁটছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে একটি সরাসরি বৈঠক আয়োজন করা হবে। শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর লেবানন ও ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। সেই চুক্তির মেয়াদ আগামী রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সহিংসতা পুনরুত্থানের ঝুঁকি এড়াতে এবং আলোচনার পথ প্রশস্ত রাখতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে এর মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সক্রিয় মধ্যস্থতা লেবানন সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে হিজবুল্লাহর প্রভাব কমিয়ে দেশটিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছেন, তা এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কার্যকর করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স