
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের খবরে তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা এলাকায় লিমনের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে চলছে আহাজারি। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ পুরো গ্রাম।
নিহত লিমন মাদারগঞ্জের জহুরুল হকের ছেলে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে এক বছর আগে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন তিনি।
গত ১৬ এপ্রিল থেকে লিমনের সঙ্গে তার বন্ধু নাহিদা সুলতানাও নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে লিমনের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

লিমনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরবাড়িতে তালা ঝুলছে। পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থান করছেন। লিমনের চাচি আকলিমা আক্তার জানান, ছোটবেলা থেকেই লিমন অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং তার স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া। উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল তার, পরিবারের পক্ষ থেকে পাত্রী দেখাও চলছিল। কিন্তু একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড সব স্বপ্ন ভেঙে দিল।
লিমনের চাচা আল আমিন ফোনে জানান, শুক্রবার রাতে লিমনের মরদেহ পাওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা দিশেহারা। ঠিক কী কারণে এই নৃশংস ঘটনা ঘটল তা এখনও তাদের কাছে অস্পষ্ট। শোকাতুর পরিবারের সদস্যরা এখন লিমনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনার দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে লিমনের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও গ্রামবাসী।