
রসকসমসের সম্প্রতি প্রকাশিত পৃথিবীর একটি স্যাটেলাইট ছবি
নীল গ্রহ পৃথিবীর চেনা রূপ যেন এক নিমেষে বদলে গেল রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের লেন্স। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি স্যাটেলাইট ছবিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল হইচই। কোনো মহাজাগতিক অলৌকিক ঘটনা না হলেও, ছবিতে পৃথিবীকে যে রূপে দেখা গেছে তা এক কথায় নজিরবিহীন।
আবহাওয়া স্যাটেলাইট ‘ইলেক্ট্রো-এল’ থেকে ধারণ করা এই ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ছবিতে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল অঞ্চল। মহাকাশ থেকে এই এলাকাটিকে একটি উজ্জ্বল রহস্যময় সবুজ আভার মতো দেখাচ্ছে। ছবির এই শৈল্পিক রূপ সাধারণ মানুষের কাছে বিস্ময়কর হলেও বিজ্ঞানীরা একে দেখছেন প্রযুক্তির এক অসাধারণ সাফল্য হিসেবে।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সবুজ রঙ পৃথিবীর প্রথাগত কোনো রঙের প্রতিফলন নয়। ইলেকট্রো-এল স্যাটেলাইটটি মূলত ১০টি ভিন্ন বর্ণালি ব্যান্ড বা স্পেকট্রাল ব্যান্ড ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করে। আমাদের দৃশ্যমান আলোর বাইরে থাকা ‘অবলোহিত রশ্মি’ বা ইনফ্রারেড ব্যান্ড ব্যবহারের কারণেই এই সবুজ আভার সৃষ্টি হয়েছে।

মূলত বনভূমির ঘনত্ব, মেঘের স্তর এবং বায়ুমণ্ডলে থাকা আর্দ্রতার নিখুঁত পরিমাণ বিশ্লেষণের জন্যই ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার ওপর থাকা এই উজ্জ্বল আভা মূলত এই অঞ্চলের বিশাল সবুজায়ন এবং বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্পের ঘন স্তরের সংমিশ্রণকে নির্দেশ করছে।
কেনিয়ায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস ছবিটি এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করার পর থেকেই এটি ভাইরাল হয়। ছবিতে ইউরেশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত দৃশ্যমান হলেও দক্ষিণ এশিয়ার এই স্বতন্ত্র ‘সবুজ সিগনেচার’ নেটিজেনদের সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে।
একই সঙ্গে এই ছবি রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান মহাকাশ সক্ষমতার দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে রাশিয়ার ১ হাজার ৫৫৯টি সক্রিয় স্যাটেলাইট মহাকাশে থাকলেও, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই সংখ্যা ২ হাজার ৬০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি। এর ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু পর্যবেক্ষণ এবং আবহাওয়া পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।