
আলিসন বেকার ও এদেরসন
২০২৬ বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। আক্রমণভাগে সাম্বার ছন্দে ব্রাজিল যতটা উজ্জ্বল, রক্ষণের শেষ প্রহরী অর্থাৎ গোলপোস্ট নিয়ে ঠিক ততটাই বিচলিত কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গত কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত সেলেসাওদের গোলবার সামলাতে ডাক পেয়েছেন ১০ জন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কার ওপর ভরসা রাখবে ব্রাজিল? এই প্রশ্নই এখন ফুটবল দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ব্রাজিলের গোলপোস্টের দীর্ঘদিনের অতন্দ্র প্রহরী আলিসন বেকার এবং এদেরসন মোরায়েস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পারফরম্যান্সের চেয়ে তাদের ‘ইনজুরি রেকর্ড’ কোচ আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ৩৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে এই দুই মহাতারকাকে একসঙ্গে স্কোয়াডে পাওয়া গেছে মাত্র ৮ বার।
৩৩ বছর বয়সী আলিসন লিভারপুলের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও পেশির চোট তাকে বারবার ভোগাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে তিনি মাঠের বাইরে। অন্যদিকে ৩২ বছর বয়সী এদেরসন ফেনেরবাচেতে পাড়ি জমিয়ে কিছুটা ছন্দ হারিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সর্বশেষ ১২ ম্যাচে ১৪ গোল হজম করা এদেরসন এবং চোটপ্রবণ আলিসন—দুজনই এখন ফিটনেস আর ফর্মের কঠিন পরীক্ষায়।

প্রধান দুই গোলরক্ষকের চোটের কারণে আলোচনায় এসেছেন আল নাসরের ২৬ বছর বয়সী বেন্তো। আনচেলত্তির অধীনে ঘোষিত পাঁচটি স্কোয়াডেই জায়গা করে নেওয়া বেন্তোকে ভাবা হচ্ছে ভবিষ্যতের এক নম্বর পছন্দ। তবে সৌদি প্রো লিগে খেলার কারণে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক গোলরক্ষক ফার্নান্দো প্রাস। প্রাসের মতে, উত্তরসূরি হতে হলে বেন্তোকে ফিরতে হবে ইউরোপের কঠিন লড়াইয়ে।
আলিসন, এদেরসন ও বেন্তো—আনচেলত্তির সংক্ষিপ্ত তালিকায় এই তিন নাম এগিয়ে থাকলেও দৌড়ে আছেন হুগো সুজা এবং জন ভিক্তর। বিশেষ করে করিন্থিয়ানসের হুগো সুজার সাম্প্রতিক ফর্ম তাকে দলে ঢোকার বড় দাবিদার করে তুলেছে।
যদিও ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্রেড কালদেইরা ৪৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ফ্যাবিওর নাম প্রস্তাব করেছেন, তবে কোচ তাফরেল এই ‘বুড়ো’ গোলরক্ষকের দিকে হাত বাড়াবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
সাবেক গোলরক্ষক জেফারসন মনে করেন, বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। তাই শরীর সায় দিলে আলিসন ও এদেরসনই থাকছেন প্রথম পছন্দ। কিন্তু শঙ্কাটা ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে। ফার্নান্দো প্রাস প্রশ্ন তুলেছেন, অভিজ্ঞরা বিদায় নিলে ব্রাজিলের দুর্গ সামলানোর মতো তৈরি গোলরক্ষক কোথায়?
সাম্বার ছন্দে আক্রমণভাগ যত ধারালোই হোক, গোলপোস্টের নিচে ফাটল থাকলে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন আবারও অধরা থেকে যাওয়ার ভয় পাচ্ছেন সমর্থকরা। আপাতত ভক্তদের প্রার্থনা একটাই—বিশ্বকাপের আগে আলিসন ও এদেরসনের শরীর যেন আর বেইমানি না করে।