
ফাইল ছবি
দেশের শরিয়াহভিত্তিক ছয়টি প্রধান ইসলামী ব্যাংকে বিগত বছরগুলোর বিতর্কিত নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সংক্রান্ত বড় ধরনের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের এই কমিটি গত কয়েক বছরে হওয়া বিতর্কিত নিয়োগ এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে শুরু হওয়া ছাঁটাই প্রক্রিয়ার বৈধতা যাচাই করবে।
তদন্তের আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। মূলত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন এসব ব্যাংকে যে হাজার হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাদের নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং বর্তমান কর্তৃপক্ষের অব্যাহতি প্রদানের যৌক্তিকতা খুঁজে বের করাই এই কমিটির প্রধান কাজ।
আন্দোলনরত কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পটপরিবর্তনের পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা নোটিশ ছাড়াই এসব ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে কয়েক হাজার চাকরিচ্যুত কর্মী মানববন্ধন করে তাদের পুনর্বহালের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের ওপর এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালানো হয়েছে, যা পুরোপুরি বৈষম্যমূলক।
অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন অনেক নিয়োগ কোনো ধরনের সার্কুলার বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।
বিশেষ করে চট্টগ্রামের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের অযোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে ব্যাংকগুলো ভরে ফেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যাদের সনদে জালিয়াতি পাওয়া গেছে বা যারা ন্যূনতম মূল্যায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি, কেবল তাদেরই ব্যাংক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠিত এই ৭ সদস্যের কমিটিকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, ছাঁটাইকৃতরা চাকরিতে ফিরবেন না কি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি বহাল থাকবে।
কমিটির কাজ শুরু হওয়ায় বর্তমানে এই ৬ ব্যাংকের প্রশাসনিক স্তরে কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছে।