
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনালে দাপুটে পারফরম্যান্সে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পেশোয়ার জালমি। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা, যা জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে হায়দরাবাদ। দলীয় ১৬ রানে ওপেনার মাজ সাদাকাত বিদায় নেওয়ার পর অধিনায়ক মারনাস লাবুশেনও ২০ রানে সাজঘরে ফেরেন। ইনিংসের অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ‘গোল্ডেন ডাক’ উপহার দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেন নাহিদ রানা।
একই ওভারে রান আউট হন কুশল পেরেরা। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে একটি উইকেট মেইডেন নিয়ে হায়দরাবাদকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলেন এই টাইগার পেসার। ওপেনার সাইম আইয়ুব এক প্রান্ত আগলে রেখে ৫০ বলে ৫৪ রান করলেও ১৮ ওভারে মাত্র ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদ।
পেশোয়ারের বোলারদের মধ্যে অ্যারন হার্ডি ৪টি উইকেট নেন। আর নাহিদ রানা ছিলেন বিশেষভাবে কার্যকর—৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন, যার মধ্যে একটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ উইকেট মেইডেন ওভার।
১৩০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পেশোয়ার। প্রথম ওভারেই ফিরে যান মোহাম্মদ হারিস ও অধিনায়ক বাবর আজম। এরপর কুশল মেন্ডিস ও অ্যারন হার্ডি ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন, যদিও মেন্ডিস বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
মাঝপথে ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেললেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন অ্যারন হার্ডি ও আবদুল সামাদ। দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান ওঠে। হার্ডি তুলে নেন দুর্দান্ত ফিফটি, আর সামাদ করেন ৩৪ বলে ৪৮ রান।
শেষ দিকে সামাদ আউট হলেও জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায় পেশোয়ার। অবশেষে ফারহান ইউসুফের বাউন্ডারিতে ২৯ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে তারা। হায়দরাবাদের পক্ষে মোহাম্মদ আলী ৩ উইকেট নিলেও হার্ডি-সামাদ জুটির সামনে অসহায় ছিল তাদের বোলিং আক্রমণ। এ
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৯ বছর পর আবারও পিএসএলের শিরোপা জিতল পেশোয়ার জালমি। অধিনায়ক বাবর আজমের নেতৃত্বে এটি তাদের প্রথম শিরোপা জয়, আর নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিং এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।