
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম
২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনে সারা দেশে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার তথ্য জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আরও জানান যে, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, তৎকালীন সরকারের উদ্দেশ্য ছিল হেফাজতে ইসলামকে নিধন করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘অত্যন্ত পরিকল্পিত’ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মামলাটির তদন্ত নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, সারা দেশে এই আন্দোলনে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং শুধু ঢাকাতেই অন্তত ৩২ জনকে হত্যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং এই মামলায় ৩০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৭ জুনের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কেন্দ্র করে যে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, তা দেশ-বিদেশে ‘শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া নতুন গতি পেল।