
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় পরাজয়ের পরও গদি না ছাড়ার ঘোষণায় অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এবং তার মন্ত্রিসভার ২২ জন সদস্য পরাজিত হওয়ার পরও তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকার করায় রাজ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র সাংবিধানিক সংকট। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—মমতা কি তবে শেষ পর্যন্ত বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন?
নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর পরাজয় মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো। রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রথা নাকচ করে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, “রাজভবনে কীসের জন্য যাব? আমরা তো হারিনি যে যাব।” তার এই মন্তব্য ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ ২০২৬ সালের ৭ মে শেষ হবে। এই সময়সীমার মধ্যে নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করতে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। মমতা যদি স্বেচ্ছায় সরে না দাঁড়ান, তবে রাজ্যপাল (গভর্নর) বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাকে বরখাস্ত করতে পারেন। রাজভবন থেকে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী পরাজিত হওয়ার পর পদত্যাগ না করা সরাসরি ‘সাংবিধানিক অচলাবস্থা’। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ পাঠাতে পারেন। আর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া মানেই রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যাওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদের বিলুপ্তি ঘটা। সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বরখাস্ত হবেন।
সাধারণত ভারতে নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীরা পদত্যাগ করে জয়ী দলকে সরকার গঠনের সুযোগ করে দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ৭ মে সময়সীমার আগে সিদ্ধান্ত বদল না করেন, তবে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে বড় নাটকীয় ও নজিরবিহীন বরখাস্তের ঘটনা।
আগামী ৪৮ ঘণ্টা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত মমতা কি রাজভবনের চাপে নতি স্বীকার করবেন, নাকি কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে বরখাস্ত হবেন—সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা ভারত।