
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি শক্তিশালী মানবপাচার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ‘গ্যাং শফিক’ নামে পরিচিত এই চক্রের আস্তানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই মূল হোতাসহ মোট ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) পুত্রজায়ায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরের এনফোর্সমেন্ট শাখা সেলাঙ্গরের পেটালিংজায়া এলাকার একটি বাড়িতে এই অভিযান পরিচালনা করে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পেটালিংজায়ার একটি দোকানঘর সংলগ্ন বাড়িকে অবৈধ প্রবাসীদের লুকিয়ে রাখা ও ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। অভিযানে সেখান থেকে ৯ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়, যাদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আনা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তারা প্রতিবেশী দেশ হয়ে কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।
একই অভিযানে সিন্ডিকেটের ‘ফ্যাসিলিটেটর’ ও ট্রানজিট বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করা আরও দুই বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সক্রিয় এই ‘গ্যাং শফিক’ সিন্ডিকেটটি প্রতিটি প্রবাসীর কাছ থেকে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত অর্থ আদায় করত। এ পর্যন্ত চক্রটি পাচারের মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ রিঙ্গিত (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি) অবৈধভাবে আয় করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। বর্তমানে তাদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইন এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপসোম) অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।