
প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম তৈরি হবে
দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এ সামাদ মৃধা জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এসব টিকা ও অ্যান্টিভেনম সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেখানে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা।
বর্তমানে দেশে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। এ বছর হামের প্রাদুর্ভাবে ৩২০ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৪১৩ জন। এছাড়া প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষ প্রাণ হারান।
বর্তমানে দেশে অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এবং জলাতঙ্ক নিরোধী টিকার সংকট থাকায় এই নতুন প্রকল্পটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে এই চার ধরনের টিকার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত টিকা বিদেশে রপ্তানি করারও সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে সরকার চড়া দামে বিদেশ থেকে এসব টিকা আমদানি করলেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে আমদানিকৃত মূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে তা সরবরাহ করা যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী ইডিসিএল ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা উৎপাদন করার পরিকল্পনা করছে।
এই তাৎক্ষণিক প্রকল্পের পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বড় ধরনের আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এসেনশিয়াল ড্রাগস। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে সেখানে প্রায় ১০ একর জমির ওপর একটি গবেষণা ও উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যা ২০৩২ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পগুলো সফল হলে ওষুধ ও টিকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।