
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করবে যুক্তরাষ্ট্র। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছে।
রোববার টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ইউরেনিয়াম আপাতত ইরানের ভেতরেই থাকলেও তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন চাই তখনই সেটা নিয়ে আসতে পারব। সবকিছু নজরদারির আওতায় রয়েছে।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন স্পেস ফোর্স ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তার ভাষায়, ‘কেউ যদি ওই এলাকায় ঢোকে, আমরা তার নাম, ঠিকানা, এমনকি তার পরিচয়পত্র নম্বর পর্যন্ত জানতে পারব। কেউ কাছে গেলেই আমরা তা জানতে পারব এবং তাদের উড়িয়ে দেব।’
ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম বড় অচলাবস্থা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান যেন ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেয় এবং পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালানোর অধিকার তারা ছাড়বে না।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র যে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, সেসব স্থানের ধ্বংসস্তূপের নিচেই ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। যদিও ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এর অবস্থান নিশ্চিত করেনি।
গত মাসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান দ্রুতই সেই দাবি নাকচ করে দেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে। সাধারণত ইউরেনিয়ামকে প্রায় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় উন্নীত করা গেলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।