
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে টানা কয়েক দিনের নাটকীয় উত্তেজনার পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিক ‘থালাপতি’ সি জোসেফ বিজয়। দায়িত্ব নিয়েই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, রাজ্যে ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র হবেন তিনি নিজেই।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে বিজয় বলেন, তিনি ছাড়া আর কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে না। এর মাধ্যমে সরকার পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে জোটসঙ্গীদের চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না বলেও আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে বিজয় বলেন, কেউ যদি সরকারকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করে থাকে, তবে এখনই সেই চিন্তা বাদ দেওয়া উচিত। তিনি জানান, নিজে কোনো অন্যায় করবেন না এবং তাঁর সহযোগীদেরও অন্যায় করতে দেবেন না।
সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সমর্থন দেওয়ায় ডিএমকের জোটসঙ্গীদের ধন্যবাদ জানান বিজয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তিনি ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিআই(এম), ভিসিকে ও অন্যান্য সমর্থক দলের নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তামিলনাড়ুর মানুষের উদ্দেশে বিজয় বলেন, তিনি কোনো ফেরেশতা নন, বরং একজন সাধারণ মানুষ। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণের অর্থের অপব্যবহার করবেন না বলেও আশ্বাস দেন।
বিজয়ের সঙ্গে টিভিকে দলের আরও ৯ জন নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এআইএডিএমকের সাবেক নেতা কে এ সেনগোত্তাইয়ান, বিজয়ের ঘনিষ্ঠ কৌশলবিদ আধাভ অর্জুনা, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব রাজ মোহন ও তরুণ নেতা এস কীর্তনাসহ আরও কয়েকজন। পরে সমর্থক জোটের নেতারাও মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।