
গত চার মাস ধরে ওমানের একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিনি
উন্নত জীবনের স্বপ্নে ওমানে পাড়ি জমানো চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কামরুল ইসলাম (৩৮) গত চার মাস ধরে ওমানের মাস্কাটের একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। নাক ও মুখ দিয়ে জটিল রক্তক্ষরণের পর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থাকলেও উন্নত চিকিৎসা ও দেশে ফেরানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় চরম সংকটে পড়েছে তাঁর পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে পরিবারের অভাব দূর করতে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ওমানে গিয়েছিলেন কামরুল। গত সাত বছর ধরে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু চার মাস আগে ওমানের মাস্কাটে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ করেই তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হলেও কেবল অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা বা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
কামরুলের আকস্মিক এই অসুস্থতার খবরে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের এই করুণ পরিনতিতে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা এখন চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কামরুলের গ্রামের বাড়ি কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের (৬নং) এলাকাজুড়ে এখন বিরাজ করছে এক আবেগঘন ও শোকাবহ পরিবেশ।
ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে সম্পূর্ণ নিরুপায় হয়ে বাবা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে ওমানের মাস্কাটে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে অর্থের অভাবে ওমানে তার উন্নত চিকিৎসা করানো বা দেশে ফিরিয়ে আনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। মানবিক বিবেচনায় আমার ছেলেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার জন্য আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”
কামরুলকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে কচুয়ার সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও এলাকাবাসী। তাঁদের আশা, সরকারি উদ্যোগে কামরুলকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের পাশে রেখে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।