
ফাইল ছবি
বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনিবন্ধিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সাধারণ মানুষকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রতারণা এবং ভুয়া ট্যুর প্যাকেজ বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় যাত্রীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
“ড্রিম হোম ট্রাভেলস” নামের এজেন্সির বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ উঠেছিল। পরে যাচাইয়ে দেখা যায়, তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২১ সালেই শেষ হয়ে গেছে। এরপরও তারা অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় আসে এবং যুক্তরাজ্য ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি এখনো লাইসেন্স ছাড়াই বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ভুয়া অফার দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করার মত ঘটনাও ঘটছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় বলেছে, ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা আইনত অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভ্রমণকারীদের উদ্দেশে কয়েকটি নির্দেশনাও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে— কেবল নিবন্ধিত ও বৈধ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বা ট্যুর প্যাকেজ গ্রহণ করা, লেনদেনের আগে এজেন্সির লাইসেন্স যাচাই করা এবং অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন না করা।
মন্ত্রণালয়ের মতে, এসব সতর্কতা অনুসরণ করলে যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতি, প্রতারণা ও মানবপাচারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।