
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ভারতীয় অর্থনীতি। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান এক লাফে ৩৫ পয়সা কমে ৯৫.৬৩-তে ঠেকেছে, যা দেশটির ইতিহাসে ভারতীয় মুদ্রার সর্বনিম্ন দর। মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবই এই পতনের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ওভাল অফিসে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এখন লাইফ সাপোর্টে টিকে আছে। আমরা পূর্ণ বিজয় অর্জন করবো।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং বিপরীতে রুপি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সে তেলের দাম ৩.০৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৭.৪৩ ডলারে উঠেছে। তেলের এই চড়া দাম ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর চরম চাপ তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয় ও আমদানি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। হায়দরাবাদে এক সমাবেশে তিনি পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে মেট্রো রেল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। এমনকি বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের স্বার্থে এক বছরের জন্য সোনা কেনা এবং বিদেশ সফর স্থগিত রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মিরায়ে অ্যাসেট শেয়ারখানের বিশ্লেষক অঞ্জু চৌধুরী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অনিশ্চয়তা রুপির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করছে। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে আমরা আশা করছি।” আইএফএ গ্লোবাল জানিয়েছে, খোদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংকটের গভীরতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।