
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব, এমন তথ্য জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুইজন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং দুইজন ইরানি কর্মকর্তা। শুরুর দিকে চুপ থাকলেও একটা সময় ইরানি ভূখণ্ডে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে দেশটি।
বুধবার (১৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স।
রয়টার্স আরও জানায়, মার্চের শেষ সপ্তাহে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার পর পাল্টা হামলা চালায় সৌদি আরব এবং ইরানকে সতর্ক করে যে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত কয়েক মাসের যুদ্ধে ইরান জিসিসিভুক্ত বা উপসাগরীয় ছয়টি দেশের ওপরই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, শুধু সৌদি আরবই নয় ইরানের ওপর একাধিক গোপন হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতও। এবং অন্তত একটি হামলায় তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করেছে।
গত ৫ এপ্রিল আমিরাতের বরুজ পেট্রোকেমিক্যাল সাইটে ইরানি হামলার জবাবে ইসরায়েল ও আমিরাত যৌথভাবে ইরানের সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল আমিরাতকে ‘আয়রণ ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েও সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে।
সৌদি আরবের এই সামরিক তৎপরতা এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি গোপন সমঝোতা হয়েছে।
এর ফলে এপ্রিলের শুরুতে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতাটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঠিক আগেই কার্যকর হয়েছিল। আইসিজি-র ইরান বিষয়ক পরিচালক আলী ভায়েজ এই ঘটনাকে উভয় পক্ষের ‘বাস্তববাদী উপলব্ধি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক হয়েছে।