
সংগৃহীত ছবি
চীন সফরে দেশটির রাজধানী বেইজিং পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতেই তার এই সফর।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ২০১৭ সালের পর এটি ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির শীর্ষ এই দুই নেতা একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এবারের বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দেশটিকে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সম্মেলনে তাইওয়ান প্রসঙ্গ বড়ভাবে উঠে আসবে। চীনা কর্মকর্তারাও এটিকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তাইওয়ানের জন্য বরাদ্দ থাকা প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান জানতে আগ্রহী বেইজিং। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াংের মতে, শি জিনপিং ট্রাম্পকে অস্ত্র বিক্রি সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করতে পারেন। এমন সিদ্ধান্ত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হবে।
এদিকে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। গত দেড় বছরে চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেন ট্রাম্প। বেইজিং চাইছে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদজুড়ে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা কমাতে একটি স্থিতিশীল সমঝোতা হোক। এর বিনিময়ে চীন মার্কিন কৃষিপণ্য ও বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা বাড়ানোর আশ্বাস দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতও এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি সংকটের কারণে চীন ক্ষতির মুখে পড়লেও তারা এখন পর্যন্ত সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, এই সংকট মোকাবিলায় তার চীনের সহায়তা প্রয়োজন নেই, তবে ওয়াশিংটন চায় বেইজিং ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে ভূমিকা রাখুক। বিশ্লেষকদের ধারণা, শি জিনপিং নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও উপস্থাপন করতে পারেন।