
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন শান্তি প্রস্তাব ঘিরে যে সাময়িক আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই মিলিয়ে গেছে। দুই পক্ষই এখন আগের চেয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং একে অপরের কাছ থেকে ছাড় দাবি করছে। ফলে আলোচনায় ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে। তার প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন এমন এক অবস্থায় আটকে গেছেন যেখানে তার সামনে কার্যত খারাপ সব বিকল্প ছাড়া কিছু নেই। একদিকে যুদ্ধ বাড়ানোর ঝুঁকি, অন্যদিকে সমঝোতায় যেতে হলে তেহরানকে কিছু ছাড় দিতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত থেকে বের হতে চায়, তাহলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব—এই দুই ইস্যুর একটিতে আপস করতেই হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
ইরানের দাবি, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, যার মধ্যে লেবানন ফ্রন্টও রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি এবং পরে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে চায় তেহরান। তবে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি নয়। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাবের স্বীকৃতিও চায়।
ট্রাম্প অবশ্য ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে ‘আবর্জনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রোববার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর আবার হামলা চালাতে পারে, বিশ্লেষকদের মতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ যুদ্ধটি মার্কিন জনগণ পছন্দ করছে না, আর সামনে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনও রয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, ‘ঘটনা কোনো পক্ষের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয় না। ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সহনশীল ও টেকসই প্রমাণিত হয়েছে।’
এদিকে ইরান দেখিয়ে দিয়েছে, আবার হামলা হলে তার জবাব কেমন হতে পারে। ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার উদ্যোগ ঘোষণার পর ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সেই হামলাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখেননি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এতে বোঝা যায় ওয়াশিংটন নতুন করে বড় সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়।
দেশের ভেতরেও ট্রাম্প চাপের মুখে রয়েছেন। রয়টার্স পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন না যে ট্রাম্প এই যুদ্ধের পরিষ্কার কারণ ব্যাখ্যা করতে পেরেছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় মানুষ আর্থিক চাপও অনুভব করছে।
জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম।
গবেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের সামনে এখন যে বিকল্পগুলো আছে, সেগুলোর সবই খারাপ। হয় তাকে এমন শর্ত মেনে নিতে হবে যা ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন, নয়তো এমন সংঘাতে জড়াতে হবে যা পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।