
মালদ্বীপের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদামের সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নজমুল ইসলামের সাক্ষাৎ
মালদ্বীপের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম।
বুধবার মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার নবনিযুক্ত মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তার সফল ও ফলপ্রসূ মেয়াদ কামনা করেন। এসময় উভয়ের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শ্রম ও জনশক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। এসময় মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা, কমনওয়েলথ এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থায় অভিন্ন অবস্থান ও পারস্পরিক স্বার্থ ভাগাভাগি করে থাকে।
জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অভিবাসন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইরুথিশাম।
মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি এবং চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ইন্টার্নশিপ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে যে আন্তরিক আতিথেয়তা দেয়া হয়েছে, তা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় নতুন গতি পেয়েছে।
বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালদ্বীপ ২০২৮-২০৩০ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্যপদের জন্য প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছে। এছাড়াও তিনি মালদ্বীপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ ও অন্যান্য পণ্যের গুণগত মান ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রশংসা করেন।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বন্দি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে সংসদীয় অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং আগামী বছরে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশনার তার বক্তব্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতার প্রতি মালদ্বীপ সরকারের সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
হাইকমিশনার মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বৈধ অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা জোরদারে উভয় দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হাইকমিশনার যোগ করেন, বন্দি প্রত্যর্পণ, সরাসরি শিপিং সংযোগ এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত ঝুলে থাকা সমঝোতা স্মারকসমূহ দ্রুত চূড়ান্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সংযোগ, সামুদ্রিক যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।