
নেপালের নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, বিদেশি প্রযুক্তি সহায়তার আড়ালে নজরদারির ঝুঁকিও থাকতে পারে
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট এখন শুধু পর্বতারোহীদের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে দুই পরাশক্তির টানাপোড়েনে পড়েছে নেপাল।
গত ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর, হেলিকপ্টারে করে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছায়।
তাদের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি Alta X Gen 2 ড্রোনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা। এই ড্রোনের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার, মই, খাবার ও পর্বতারোহণ সরঞ্জাম বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প-১ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
তবে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি দেয়নি। ফলে পরীক্ষাটি বাতিল হয় এবং মার্কিন দলটি কাঠমান্ডুতে ফিরে যায়।
এদিকে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিজেআই-এর তৈরি DJI FlyCart 100 ড্রোন গত বছর থেকেই এভারেস্টে ব্যবহার হচ্ছে।
নেপালি প্রতিষ্ঠান এয়ার লিফট টেকনোলজি এই ড্রোন ব্যবহার করে বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প-১ পর্যন্ত সরঞ্জাম বহন করছে। ড্রোনটি কয়েক মিনিটেই ৪৫ কেজি পর্যন্ত মালামাল পৌঁছে দিতে পারে।
এর ফলে শেরপাদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত অনেক কমেছে। আগে একই কাজ করতে তাদের ৬-৭ ঘণ্টা হাঁটতে হতো। ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত কেজি মালামাল পরিবহন ছাড়াও পাহাড় থেকে আবর্জনা নামিয়ে আনা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই নেপালকে নিজেদের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। নেপাল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চাপের মধ্যে পড়েছে। ড্রোন এখন নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
নেপালের নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, বিদেশি প্রযুক্তি সহায়তার আড়ালে নজরদারির ঝুঁকিও থাকতে পারে।
মার্কিন ড্রোন পরীক্ষার অনুমতি বাতিল হওয়ার পর নেপাল সাময়িকভাবে চীনা ড্রোনের উড়ানও বন্ধ করে দেয়। এতে এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতিতে সমস্যা তৈরি হয়।
ড্রোন অপারেটররা জানান, বরফঢাকা বিপজ্জনক পথে দড়ি বসানো ও সরঞ্জাম পরিবহনের কাজ ব্যাহত হয়। তবে ৯ মে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর আবারও চীনা ড্রোন দিয়ে মালামাল পরিবহন শুরু হয়েছে। মার্কিন ড্রোন এখনো মাটিতেই পড়ে আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এভারেস্ট অঞ্চলে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে হিমালয় এলাকায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাদের মতে, বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত এখন শুধু অভিযানের কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রযুক্তি ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার নতুন মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল