
ডানহাতি গতি তারকা তাসকিন আহমেদের সুইং আর গতির তোপে পড়ে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পাকিস্তান
সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে লিটন দাসের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় দিনের শুরুটা বল হাতে দুর্দান্তভাবে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ডানহাতি গতি তারকা তাসকিন আহমেদের সুইং আর গতির তোপে পড়ে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারী পাকিস্তান।
প্রথম টেস্টের শেষ বিকেলে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলে দিন শেষ করেছিল পাকিস্তান। তবে দ্বিতীয় দিনের সকালটা ছিল সম্পূর্ণ তাসকিনময়। দিনের শুরুতেই পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে পরাস্ত করেন তিনি। দলীয় ২২ রানে ব্যক্তিগত ৯ রান করা ফজলকে উইকেটের পেছনে বাঁ দিকে চমৎকার ডাইভ দিয়ে গ্লাভসবন্দী করেন লিটন কুমার দাস।
প্রথম ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পাকিস্তানের শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত হানেন তাসকিন। এবার তাঁর শিকার প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইজ। প্রথম দিনের শেষ বিকেলে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিলেও এদিন তাসকিনের বলে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ১৩ রান করা আজান। মাত্র ২৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসা পাকিস্তানকে টেনে তোলার দায়িত্বে এখন ক্রিজে আছেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও অভিজ্ঞ বাবর আজম। সফরকারীরা এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ২৫৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
এর আগে টসে জিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি বোলারদের সামনে চরম সংকটে পড়েছিল বাংলাদেশ। মাত্র ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল দল, তখন স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এক অনবদ্য সেঞ্চুরি উপহার দেন লিটন কুমার দাস। ১৬টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১২৬ রানের এক নান্দনিক ইনিংস খেলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় শতক।
লিটনের এই লড়াকু ইনিংসে ভর করেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের সম্মানজনক পুঁজি পায়। দলের পক্ষে তানজিদ হাসান তামিম ২৬, নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯, মুমিনুল হক ২২ ও মুশফিকুর রহিম ২৩ রান করলেও কেউ নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে খুররম শাহজাদ ৪টি এবং মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি উইকেট নেন।