
আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মূল্য এখন সাধারণ আমেরিকানদের দিতে হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে প্রস্তুত বলে সতর্ক করেছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটি দাবি করেছে, চলমান সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনেও বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচ ও মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
আরাঘচি দাবি করেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মূল্য এখন সাধারণ আমেরিকানদের দিতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, গ্যাসের দাম, ঋণের সুদ এবং বাড়ির মর্টগেজ খরচ দ্রুত বাড়তে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফও যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করে বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে গিয়ে আমেরিকা বিপুল ঋণের বোঝা বহন করছে।
এদিকে মার্কিন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়ছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ
ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় সবচেয়ে বড় জটিলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ প্রশ্ন। ইরান চাইছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তাদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তবে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধানিইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন ব্যবস্থা ঘোষণা করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজই সুবিধা পাবে এবং অন্যদের জন্য ফি আরোপ করা হতে পারে।
ইরানের ভেতরেও তীব্র অর্থনৈতিক সংকট
যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সাধারণ ইরানিদের জীবনে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। রান্নার তেল, চাল ও মুরগির মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত এক বছরে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। খাদ্য, ওষুধ, গাড়ি ও ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরানে উত্তেজনা এখনো তুঙ্গে। সরকার সমর্থকদের প্রতিদিন রাতে রাস্তায় নামতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অস্ত্র হাতে উপস্থাপকদের দেখা যাচ্ছে, যেখানে যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে—এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় চ্যানেলগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেখানো হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো সাঁজোয়া যান ও নিরাপত্তা চৌকি মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ইরানে ব্যাপক ধরপাকড়, ইন্টারনেট সীমিতকরণ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।