
নিহত নুরে আলম ও ইদ্রিস মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার দুই প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় দেশটির জেদ্দা-রিয়াদ মহাসড়কের আফিফ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বাসুদাই গ্রামের মৃত খলিলুর রহমান সওদাগরের ছেলে নুরে আলম (৪২) এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের বাসিন্দা ইদ্রিস মিয়া (৪৩)। সুদূর প্রবাসে দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তাদের নিজ নিজ এলাকায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নুরে আলম ও ইদ্রিস মিয়া সৌদি আরবের রিয়াদে যৌথভাবে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। ঘটনার দিন শুক্রবার তারা দুজনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জেদ্দা থেকে মালামাল কিনে একটি গাড়িযোগে রিয়াদের উদ্দেশে রওনা হন।
পথিমধ্যে আফিফ এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই প্রবাসীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় এক সৌদি নাগরিকও নিহত হয়েছেন এবং গাড়িচালকসহ আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত নুরে আলমের স্ত্রী সুমি আক্তার। দিশাহারা এই নারী বলেন, “আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে আমরা এখন পুরোপুরি নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার স্বামীর মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, সেজন্য আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।”
এই বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু রায়হান জানান, দুর্ঘটনার খবরটি তারা জেনেছেন। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। পরিবার আবেদন করলেই মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আমাদের সাথে যোগাযোগ করলেই সরকারি প্রক্রিয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।”