
পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশ্যেলসে হয়ে গেল নেচার ট্রেইল চ্যালেঞ্জ ২০২৬। শনিবার (১৬ মে) দেশটির রাজধানী মাহে আইল্যান্ডে এই ইভেন্টে অংশ নেন ১৪টি দেশের দেড়শরও বেশি প্রতিযোগী।
২ ঘণ্টা ১১ মিনিট সময় নিয়ে প্রথম হন পাকিস্তানের ওয়াকার আহমেদ নাসের, যিনি গত আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। তার চেয়ে ২ মিনিট বেশি সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন দক্ষিণ আফ্রিকার ড্যানিয়েল ক্লাসেন।
এ ছাড়া নারীদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার এমিলি জক ২ ঘণ্টা ৫১ মিনিট সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। ৩ ঘণ্টা সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন রিইউনিয়ন আইল্যান্ডের সিলভেইন কিউসট।
সেশ্যেলস পর্যটন বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি টানা তৃতীয় আসর হলেও, প্রতিকূলতা, বৈচিত্র্য ও শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে এই প্রতিযোগিতাটি এরই মধ্যে বিশ্বের অন্যতম দুর্গম ট্রেইল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্রেইলে প্রতিযোগীদের সমুদ্র সৈকত, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমি ও গ্রানাইট পাহাড়ের পথে কয়েক হাজার ফুট ওঠানামা করতে হয়। বিষুবীয় অঞ্চলের প্রচণ্ড গরম ও প্রখর রোদে কড়া রোদে দীর্ঘ দৌড় কেবল শারীরিক সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ নয়, প্রতিযোগীরা প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ারও সুযোগ পান।
তৃতীয় আসরের ট্রেইল চ্যালেঞ্জে রাজধানী মাহে দ্বীপের পশ্চিমে পোর্ট লন এলাকার কনস্ট্যান্স ইফেলিয়া রিসোর্ট থেকে শুরু হয়ে গ্র্যান্ড আনস এলাকায় ট্রেইলের দৌড় শেষ হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে এবারের আসরের চ্যাম্পিয়নসহ বিভিন্ন শাখায় সেরা প্রতিযোগীদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন সেশ্যেলসের পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আমান্ডা বার্নস্টেইন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ট্রেইল রানিং প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে সেশ্যেলস আইল্যান্ড প্রকৃতি, শারীরিক সুস্থতা ও টেকসই উন্নয়নকে এক সুতোয় গাথার চেষ্টা করছে। শুধু মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা হয়, আগামী দিনের ট্রেন্ড হিসেবে ক্রীড়াভিত্তিক বা অংশগ্রহণমূলক পর্যটনকেও জনপ্রিয় করে তুলতে চান তারা।
ভারত মহাসাগরে ১১৫টি দ্বীপ নিয়ে সেশ্যেলস আইল্যান্ড দেশটি সারা বছরই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকের আনাগোনায় মুখরিত থাকে। নেচার ট্রেইল চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতা ঘিরে দেশটির পর্যটনে নতুন মাত্রা যুক্ত করবে বলে আয়োজকরা আশাবাদী।