
ছবি: সংগৃহীত
প্রখর রোদেলা দিন শেষে দুপুর গড়াতেই সারি সারি গাড়ি ছুটছে ওমানের রাজধানী মাস্কাট সিটি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের নয়নাভিরাম, সবুজে ঘেরা ‘সাওয়াদি ওয়াটার পার্ক’-এর দিকে। কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউবা সেজেছেন লাল-সাদায় ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী সাজে। প্রবাস জীবনের ক্লান্তি আর যান্ত্রিক ব্যস্ততা ভুলে ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা একদিনের জন্য যেন ফিরে গিয়েছিলেন শেকড়ের টানে, বাংলার চিরায়ত উৎসবে।
ওমানে বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবের উদ্যোগে গত শুক্রবার দিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। চারদিকে বাংলা গান, আড্ডা আর চেনা হাসিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পার্ক এলাকা। মরুভূমির বুকে প্রবাসীরা যেন তৈরি করেছিলেন এক টুকরো বাংলাদেশ।
মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল দেশীয় খাবারের স্টলগুলো। ফুচকা, চটপটি, হরেক রকমের ভর্তা, ঐতিহ্যবাহী পিঠা ও কাবাবসহ গ্রামবাংলার নানা পদের খাবারের স্বাদ নিতে স্টলগুলোতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। বড়দের জন্য যেমন ছিল গ্রামীণ খেলাধুলার প্রতিযোগিতা, তেমনি শিশুদের জন্য ছিল বিশেষ খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা। মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ ও গানের সুরে মুগ্ধ হন ওমানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো প্রবাসী।
মেলায় আসা সাগর চৌধুরী নামের এক প্রবাসী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “প্রবাসে থেকেও আজ মনে হচ্ছে যেন দেশের কোনো গ্রামীণ বৈশাখী মেলায় আছি।” আমরাত অঞ্চল থেকে আসা প্রবাসী ব্যবসায়ী ইকবাল বলেন, “কাজের চাপে আমরা সবাই প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকি। সোশ্যাল ক্লাবের এমন চমৎকার আয়োজন আমাদের সবাইকে আবার একসাথে একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।”
পরিবারসহ মেলায় আসা আরাফাত নামের আরেক প্রবাসী জানান, এ ধরনের উৎসবের মাধ্যমে প্রবাসের বুকেও নতুন প্রজন্মের সন্তানদের বাঙালি সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে ছুটি পেয়ে মেলায় ছুটে আসা কর্মজীবী নারী হালিমা বলেন, “পার্কের অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ, বৈশাখী সাজ আর দেশীয় খাবার—সব মিলিয়ে দারুণ একটা দিন কাটল।”

ছবি: সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবের সভাপতি আজিম উল হক বাবুল। তিনি বলেন, “প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, বাঙালি সংস্কৃতি রক্ষা ও বন্ধন আরও দৃঢ় করতেই প্রতিবছর এমন আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই উৎসব করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।”
মেলায় সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়ার অ্যাডমিরাল খন্দকার মিসবাহ উল আজিম। প্রবাসে দেশের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এই দারুণ প্রচেষ্টার জন্য তিনি সোশ্যাল ক্লাবের কর্মকর্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
দিনশেষে একরাশ আনন্দ, গান আর স্মৃতিমাখা মুহূর্ত হৃদয়ে নিয়ে ঘরে ফেরেন হাজারো প্রবাসী। মেলা শেষে ফেরার পথে সবার কণ্ঠেই ছিল এক সুর—দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থাকলেও এমন আয়োজন প্রবাসীদের হৃদয়ে সর্বদা বাঁচিয়ে রাখে প্রিয় বাংলাদেশকে।