
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে ইরানের ওপর পরিকল্পিত নতুন সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে এবং একটি বড় সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে উভয় পক্ষের মধ্যে এমন একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। পোস্টে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।”
তবে আলোচনার কথা বললেও তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প সতর্ক করেন, শেষ পর্যন্ত যদি কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো মুহূর্তে’ ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের জবাবে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কৌশলগত ভুল ও ভুল হিসাব’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে। পাল্টা জবাবে তেহরানও পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরান আবারও ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে। মূলত এই জানমালের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতেই আরব নেতারা ট্রাম্পকে হামলা স্থগিতের অনুরোধ জানান।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে একটি ‘খুবই ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে অতীতেও কয়েকবার সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার রেকর্ড স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখতে হবে। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন মনে হচ্ছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, “ইরানের সঙ্গে সমঝোতার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। যদি বোমাবর্ষণ ছাড়াই সেটা করা যায়, তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই খুশি হব।” উল্লেখ্য, আলোচনা সচল রাখার সুবিধার্থে গত এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া মোটামুটি বহাল রয়েছে।