
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পাঁচ লাখ শূন্য পদে জনবল নিয়োগের এক বিশাল ও ঐতিহাসিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি সময়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সরকারের তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ তথ্য জানিয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তিন মাসের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। শূন্য পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শূন্য পদ পূরণের সর্বশেষ তথ্য এবং নিয়োগের সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব ও দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের কার্যকর ও সমন্বিত দূরদর্শী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে জ্বালানি সংকট সফলভাবে উত্তরণ করা সম্ভব হয়েছে এবং ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করছে সরকার।
জ্বালানি সরবরাহে শতভাগ শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে ইতোমধ্যে দেশে আধুনিক ‘ফুয়েল কার্ড’ বা ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২১১টি যানবাহন এই ডিজিটাল ফুয়েল পাস সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে এবং দেশের মোট ২২৩টি ফিলিং স্টেশনকে এই আধুনিক কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) সক্ষমতা দ্বিগুণ বাড়াতে এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সরকার দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। আগামী মাসেই (জুন) এর জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে এই দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুরোদমে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে গণপরিবহন ও পরিবেশ সুরক্ষায় মন্ত্রিপরিষদের সাম্প্রতিক একটি বড় সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বা বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে সর্বোচ্চ উৎসাহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত বা ডিউটি ফ্রি সুবিধায় এই বৈদ্যুতিক বাসগুলো আমদানি করতে পারে, সেই বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।