
আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস
যে ছোট্ট পতঙ্গটির গুনগুন শব্দকে আমরা কেবলই মধুর খোঁজে ছুটে চলা ভাবি, আসলে তার ডানায় ভর করেই টিকে আছে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা। আজ ২০ মে, বিশ্ব মৌমাছি দিবস। অথচ একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক সময়ে এসেও আমরা অনেকেই জানি না যে, ডাইনিং টেবিলে প্রতিদিন আমাদের সামনে যে খাবার আসে, তার প্রতি তিন গ্রাসের এক গ্রাস নিশ্চিত করে এই মৌমাছিরা।
ফসলের মাঠে নিঃশব্দে পরাগায়নের যে মহাযজ্ঞ এরা চালায়, তা থমকে গেলে পুরো মানবসভ্যতার খাদ্যচক্র ধসে পড়তে বাধ্য। এই অতি প্রয়োজনীয় সচেতনতা ছড়িয়ে দিতেই ২০১৭ সালে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে দিনটি।
এই বিশেষ দিনটির সাথে জড়িয়ে আছে আধুনিক মৌচাষের গোড়াপত্তনের ইতিহাস। ১৭৩৪ সালের ২০ মে জন্ম নেওয়া স্লোভেনীয় মৌচাষি অ্যান্টন জনসাকে বলা হয় এই বিজ্ঞানসম্মত চাষের জনক। তাঁর সেই যুগান্তকারী কাজকে স্মরণ করেই আজ বিশ্বব্যাপী স্মরণ করা হচ্ছে প্রকৃতির এই অক্লান্ত কর্মীদের।
বিজ্ঞান বলছে, পৃথিবীর প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির মৌমাছির মধ্যে বাংলাদেশের চিরচেনা ‘এপিস ইন্ডিকা’ অন্যতম, যা লোকালয়ের আনাচে-কানাচে প্রাকৃতিকভাবে চাক বাঁধে। শুধু এই গৃহপালিত মৌমাছিই নয়, সুন্দরবনের গহীনে বাঘের সাথে লড়াই করে টিকে থাকা বুনো মৌমাছির দল যে মধু ও মোম তৈরি করে, তা গুণগত মানে সারা বিশ্বে অনন্য।
সমাজবিজ্ঞানীদের কাছেও মৌমাছির জীবন এক পরম বিস্ময়। একটি রানীকে কেন্দ্র করে পুরুষ আর কর্মী মৌমাছিদের যে সুশৃঙ্খল কর্মবণ্টন, তা যেকোনো আধুনিক করপোরেট ম্যানেজমেন্টকেও হার মানায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমরা আমাদের এই পরম বন্ধুদের বিষ খাইয়ে মারছি।
ফসলের ক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক, অবাধে বন উজাড় আর বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় বিশ্বজুড়ে মৌমাছির জনসংখ্যা এখন আশঙ্কাজনক হারে কমছে।
তাই এবারের বিশ্ব মৌমাছি দিবসে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, ফসলে রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো, বেশি করে ফুল ও ফলদ গাছ লাগানো এবং মৌমাছির নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকৃতি ও নিজেদের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভিজুয়াল স্টোরি