
ছবি: সংগৃহীত
দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল মাদারীপুরের যুবক সুরুজ কাজীর। সেই স্বপ্ন পূরণে ঘর ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন হাজার মাইল দূরের দেশ রাশিয়ায়। একপর্যায়ে যোগ দেন দেশটির সেনাবাহিনীতে। কিন্তু চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রণাঙ্গনই কেড়ে নিল তার প্রাণ। যুদ্ধক্ষেত্রে সুরুজের মৃত্যুর খবরে এখন পুরো এলাকায় চলছে শোকের মাতম, স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্বজনেরা।
তিন দিন আগে সুরুজ নিহত হলেও বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে প্রথম বিষয়টি জানতে পারে তার পরিবার। নিহত সুরুজ কাজী মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগড়াচড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন কাজীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে পরিবারের তীব্র আর্থিক সংকট দূর করতে ও ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে রাশিয়ায় পাড়ি জমান সুরুজ। সেখানে বিভিন্ন সাধারণ কাজ করার পর একপর্যায়ে ভালো উপার্জনের আশায় রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হন তিনি। এরপর তাকে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাশিয়ায় থাকা এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে সুরুজের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হয় পরিবার। সুরুজের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তার খাগড়াচড়ার বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ঢল নামে। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা-মা। সন্তানকে তো আর জীবিত ফিরে পাবেন না, তাই শেষবারের মতো অন্তত সুরুজের মরদেহটি যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, সেজন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
নিহতের স্বজন রহমত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অভাবের সংসারটা একটু ভালো করার আশায় বিদেশে গিয়েছিল সুরুজ। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই ছেলেটাই আজ লাশ হয়ে ফিরবে, এটা কখনো কল্পনাও করিনি। আমরা শুধু তার মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।’
স্থানীয় প্রতিবেশী রবিন তার স্মৃতি চারণ করে বলেন, ‘সুরুজ খুব শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছেলে ছিল। পরিবারের জন্য নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল। ছোটবেলা থেকেই সে অনেক কষ্ট করেছে। তার এই অকাল মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে।’
এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব জানান, ঘটনাটি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম জেনেছেন তারা। বিষয়টি সরকারিভাবে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি সুরুজের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে পরিবার যদি কোনো প্রশাসনিক সহযোগিতা চায়, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।