
শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে রাতে শিশুটির বাসায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে সরকারপ্রধান পল্লবীতে রামিসার বাসায় পৌঁছান।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষ করেই তিনি সরাসরি নিহত শিশু রামিসার বাসায় যান এবং তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে গভীর সমবেদনা জানান ও অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দৃঢ় আশ্বাস দেন।
এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো দেশ এখন ক্ষোভে ফুঁসছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি উঠেছে। জড়িতদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবী থানা ঘেরাও করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এছাড়া রাতে রাজধানীর কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।
এর আগে গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। আদালতকে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল, যার ফলে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
ঠিক ওই সময় রামিসার মা নিজের সন্তানের খোঁজে সোহেলদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে ধরা পড়ার ভয়ে সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের পুরো সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন এবং অপরাধ সংঘটনের আগে সোহেল ইয়াবা সেবন করেছিল বলে স্বীকার করেছে।
মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী, বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোহেল রানাকে হাজতখানা থেকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এরপর বিচারক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে পুলিশের অপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই পাশবিক মামলার বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করতে প্রশাসন ও আইন মন্ত্রণালয় বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।