
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের জারি করা পশু জবাই সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনামূলক বিজ্ঞপ্তি বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জবাই উপযোগী বলে সরকারি শংসাপত্র (ফিটনেস সার্টিফিকেট) ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। একই সঙ্গে সর্বসাধারণের চলাচলের জায়গায় বা প্রকাশ্যে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলেও কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গরু ও মহিষ জবাইয়ের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। রাজ্য সরকারের ওই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার সেই মামলাগুলোর যৌথ শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আপাতত রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে কোনো ধরনের স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না।
তবে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, রাজ্য সরকারকে শংসাপত্র প্রদানের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো বা জনবল আরও জোরালোভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। এছাড়া আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মূল মামলার শুনানি যথারীতি চলবে, কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিদ্যমান বিধিনিষেধগুলো পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী এক রায়ে গরু কোরবানি সংক্রান্ত যে আইনি মন্তব্য করা হয়েছিল, তা বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী, যদি কোনো পশুর ক্ষেত্রে ছাড়ের আবেদন জমা পড়ে, তবে তা দ্রুততার সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।
শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ‘बिहार রাজ্য সরকার বনাম মহম্মদ হানিফ কুরেশি’ মামলার পর্যবেক্ষণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় হাইকোর্ট। ওই মামলায় শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছিল, গরু জবাই করা ঈদ-উজ-জোহার অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ নয় এবং ইসলামে তা বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রয়োজন হিসেবেও বিবেচিত নয়।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের এই বিজ্ঞপ্তিতে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনানুযায়ী— ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ, মহিষের বাছুর এবং খোজা মহিষসহ নির্দিষ্ট যেকোনো প্রাণী জবাই করতে হলে সবার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত শংসাপত্র নিতে হবে। এই সরকারি শংসাপত্র ছাড়া যেকোনো উপায়ে এসব প্রাণী জবাই করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। ঈদকে কেন্দ্র করে আদালতের এই রায় রাজ্য জুড়ে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।