
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন বিমান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে সংঘাতে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর অন্তত ৪২টি সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের সাম্প্রতিক একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র শুরু থেকে শত্রুপক্ষের সরাসরি আঘাত, নিজেদের বাহিনীর ভুল গোলাবর্ষণ (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) এবং যুদ্ধকালীন বিভিন্ন মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণে আমেরিকার বিমানবাহিনী এই নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা করলেও, রণক্ষেত্রে ওয়াশিংটন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে।
কংগ্রেসের প্রতিবেদনের সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হারানো ৪২টি বিমানের মধ্যে রয়েছে ২৪টি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ফাইটার জেট, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টিলথ ফাইটার, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট, একটি ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াক্স নজরদারি বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন।
গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ফ্রেন্ডলি ফায়ারে তিনটি এবং ৫ এপ্রিল ইরানের ভেতরে অভিযানকালে একটি এফ-১৫ই ফাইটার জেট ধ্বংস হয়। এছাড়া ইরাকের আকাশে একটি রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু নিহত হন। পাশাপাশি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পাঁচটি রিফুয়েলিং ট্যাংকার ও একটি নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে, ইরানের স্থলবাহিনীর গুলিতে একটি এফ-৩৫এ স্টিলথ ফাইটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের টিকে থাকার ক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিপুল সামরিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে এবং হারানো বিমানগুলো প্রতিস্থাপনে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে পেন্টাগন তাদের যুদ্ধকালীন মেরামত ও প্রতিস্থাপন ব্যয়ের প্রাক্কলন ২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই চরম ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান সামনে আসার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওয়াশিংটনকে তীব্র উপহাস করেছেন। মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৬টি সামরিক ঘাঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরান প্রত্যাশার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে তাদের সামরিক শিল্প ঘাঁটি ও অবকাঠামো পুনর্নিমাণ করছে এবং নতুন করে ব্যাপক হারে ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে। সংঘাত শেষ হলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের এই বড় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখন খোদ ওয়াশিংটনের ভেতরেই তুমুল সমালোচনা চলছে।