
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছর বয়সী অবুজ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ফাঁসির দাবির মধ্যেই এবার সামনে এসেছে গ্রেপ্তারকৃত মূল আসামি সোহেল রানার অতীত জীবনের নানা অপকর্মের তথ্য। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এই ঘাতকের অন্ধকার জীবনের খতিয়ান এখন মুখে মুখে ঘুরছে তার নিজ এলাকায়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা সোহেল রানা প্রায় তিন বছর আগে তীব্র পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত নানা কেলেঙ্কারির কারণে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। গ্রামে থাকাকালীন তিনি সাধারণ রিকশা মেরামতের কাজ করতেন বলে পরিচিত ছিলেন। তবে পর্দার আড়ালে তার স্বভাব ছিল ভিন্ন।
স্থানীয়দের জোরালো দাবি, গ্রামে থাকা অবস্থাতেই সোহেলের বিরুদ্ধে চুরি, নিয়মিত জুয়া খেলা, তীব্র মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক চরম অস্থিরতা সৃষ্টির মত একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। বিভিন্ন সময়ে এসব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ-বৈঠক হলেও চতুর সোহেল সবসময়ই পার পেয়ে যেতেন।
পারিবারিক তথ্যানুযায়ী, সোহেল রানার প্রথম সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু তার মাদকাসক্তি ও উশৃঙ্খল জীবনযাপনের কারণে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই মূলত পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।
সোহেলের ছোট বোন জলি বেগম স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় তিন বছর আগে পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তার সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ বা খোঁজখবর ছিল না। অবুজ শিশু রামিসা হত্যার এই লোমহর্ষক খবরটি তারা অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানতে পেরেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাটোর থেকে পালিয়ে আসার পর সোহেল ঢাকায় এসে পল্লবীতে নতুন পরিচয়ে এবং ছদ্মবেশে বসবাস শুরু করেন, যেন তার পূর্বের কোনো অপরাধ কেউ টের না পায়। নিজের অতীত ও আসল পরিচয় গোপন রাখার জন্য তিনি সবসময় সচেতন থাকতেন। এ বিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, থানার বর্তমান রেকর্ড বুক অনুযায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামীণ সালিশ বা কোনো মৌখিক অভিযোগ হয়ে থাকলেও তার কোনো সরকারি আইনি নথি থানায় নেই।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় শিশু রামিসা আক্তারকে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং মূল আসামি আদালতে নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আইনগতভাবে তদন্তাধীন থাকায় পুলিশ আসামির অতীত জীবনের অন্যান্য অপরাধের সংযোগও খতিয়ে দেখছে।