
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ।। ফাইল ছবি
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজ শেষে শহরের পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং হকিস্টিক দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনাস্থলটি জেলা প্রশাসকের বাসভবনের বিপরীতে হওয়ায় পুরো ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর পুলিশের সামনেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ডিম ও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। পরে হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হন এবং কয়েকজনের মাথা ফেটে যায়। তাকেও লক্ষ্য করে কিল-ঘুষি মারা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া হামলার সময় কয়েকজনের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন এনসিপির এই নেতা। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও দাবি করেন, হামলার পরও বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হয়ে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য কিছুটা ভিন্ন। স্থানীয় কয়েকজন জানান, জুমার নামাজ শেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে গেলে হঠাৎ পেছন দিক থেকে কিছু যুবক ডিম নিক্ষেপ শুরু করে। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ ঘটনায় এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এনসিপি নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়। পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ ঘটনায় এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।