
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি মনির হোসেন আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বকর সিদ্দীকের আদালতে তাঁর এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলায়মান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কঠোর নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে লম্পট মনিরকে আটকের পর তাকে নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার দাবিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া ওই এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এই সহিংসতায় অন্তত ২১ জন পুলিশ সদস্য এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১০ জন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
বাকলিয়া থানার ওসি জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চাকরিজীবী মা-বাবার চার বছরের কন্যাশিশুকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে একটি গুদামে নিয়ে ধর্ষণ করে ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মনির। পরবর্তীতে ভবনের সিঁড়িতে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মনিরকে আটক করে।
এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর আগে রাতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুমিল্লার বাসিন্দা মনির বলেছিল, ‘আমাকে শয়তানে পাইছে। আমি দোষ স্বীকার করছি।’
বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং তার পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, এই বর্বরোচিত ঘটনা এবং ঢাকার শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ইসলামী ছাত্রশিবির, এনসিপি ও ছাত্রশক্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন খুনি ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে।