
অক্ষয় কুমার
সিনেমার পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনেও নিজের মানবিক উদ্যোগের জন্য আবারও ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন বলিউডের জনপ্রিয় খিলাড়ি অক্ষয় কুমার। জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী একটি জরাজীর্ণ সরকারি স্কুলে এক কোটি রুপি অনুদান দিয়ে পাঁচ বছর আগে দেওয়া নিজের এক অনন্য প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন এই অভিনেতা।
সম্প্রতি তাঁর দেওয়া এই বিপুল অনুদানের অর্থের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলার গুরেজ উপত্যকার প্রত্যন্ত সীমান্ত গ্রাম নেরো তুলাইলে অবস্থিত সরকারি স্কুলটিতে নতুন দৃষ্টিনন্দন শিক্ষা ভবন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় অবহেলিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সামগ্রিক পরিবেশে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একসময় এই স্কুলটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক ও জরাজীর্ণ। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং অবকাঠামোর অভাবে দিনের পর দিন ব্যাহত হচ্ছিল এখানকার শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম। তবে অক্ষয় কুমারের সময়োপযোগী সহায়তায় এখন সেই ধুঁকতে থাকা স্কুলে ফিরেছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য, আর আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও।
অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ারে বিভিন্ন দুর্যোগ ও সামাজিক উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নজির অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে কাশ্মীরের এই স্কুলে অনুদান দেওয়ার পেছনের গল্পটি শুরু হয়েছিল আরও আগে। জানা গেছে, ২০২১ সালে সীমান্তে দিনরাত দায়িত্ব পালন করা বিএসএফ সদস্যদের মনোবল বাড়াতে কাশ্মীর সফরে গিয়েছিলেন অক্ষয় কুমার। সেই সফরের অংশ হিসেবেই তিনি উত্তর কাশ্মীরের প্রত্যন্ত নেরো গ্রামে যান এবং সেখানকার সরকারি স্কুলটির বেহাল দশা দেখে নিজ তহবিল থেকে এক কোটি রুপি অনুদানের তাৎক্ষণিক ঘোষণা দেন।
অবশেষে পাঁচ বছর পর সেই দেওয়া কথা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করলেন এই অভিনেতা। তাঁর এই অনুদানে নবনির্মিত আধুনিক ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে ‘শ্রী হরি ওম ভাটিয়া এডুকেশন ব্লক’। নিজের প্রয়াত বাবা হরি ওম ভাটিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েই অক্ষয় কুমার এই বিশেষ নামকরণটি করেছেন।
নতুন এই শিক্ষা ব্লকে আধুনিক ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, উন্নত লাইব্রেরি এবং শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজের জন্য আলাদা অফিস স্পেস। শুধু তাই নয়, এই স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য চলমান মিড-ডে মিল প্রকল্পের মান ও সুবিধাও আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত করা হয়েছে।