
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেই চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের পরপরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শনিবার (২৩ মে) চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংজু শহরে পৌঁছান শাহবাজ শরিফ। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সুনির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও, পাকিস্তান ও চীন—দুই দেশই এই সংকট সমাধানে নেপথ্যে থেকে জোর কূটনৈতিক মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, এই সফরে উভয় দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করবে বেইজিং। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তান যে ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, চীন তাকে পূর্ণ সমর্থন করে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তান অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। গত মাসে পাকিস্তানের আয়োজনে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হলেও তা থেকে স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে আলোচনা এখন আবার হামলা শুরু হওয়া এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ প্রায় অচল হয়ে আছে। সম্প্রতি বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় সচল করতে চীন সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চীন দৃশ্যত কিছুটা নীরব ভূমিকা পালন করলেও, পর্দার আড়ালে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপ ও বৈঠকের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে ইসলামাবাদকে মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক এই সংকটকে কেন্দ্র করে গত দুই সপ্তাহে বেইজিং সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও।