
নতুন এই আইন নিয়ে একদিকে যেমন আশাবাদ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বেড়েছে উদ্বেগও
জাপানে বহু বছর ধরে বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের জীবনে বাবা কিংবা ময়ের মধ্যে যেকোনো একজন অভিভাবক প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে যেতেন। তবে সেই বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আনতে দেশটিতে কার্যকর হয়েছে নতুন যৌথ অভিভাবকত্ব আইন। নতুন এই আইন নিয়ে একদিকে যেমন আশাবাদ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বেড়েছে উদ্বেগও।
হংকং থেকে আসা জন ডেং (ছদ্মনাম) গত ২২ বছর ধরে জাপানে বসবাস করছেন। এখানেই তিনি সংসার গড়েছিলেন এবং দুই সন্তানের বাবা হন। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের পর তার সাবেক স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে চলে যান। এরপর থেকেই সন্তানদের সঙ্গে তার যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
ডেং বলেন, সন্তানদের কাছাকাছি থাকতে তিনি এখন দুটি আলাদা বাসায় থাকেন। তারপরও মাসে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। ফোনে কথাও বলতে পারেন না নিয়মিত।
তিনি বলেন, ‘আমি খুব শূন্য অনুভব করি। সন্তানদের দুজন অভিভাবকের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখার অধিকার থাকা উচিত।’
দীর্ঘদিন ধরে জাপানে ‘সোল কাস্টডি’ বা একক অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা চালু ছিল। অর্থাৎ, বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের আইনি দায়িত্ব থাকত কেবল একজন অভিভাবকের হাতে। অন্যজন সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন কি না, সেটিও নির্ভর করত কাস্টডি পাওয়া ব্যক্তির ওপর।
২০২৪ সালে জাপানের পার্লামেন্টে আইন সংশোধনের পর চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে দেশটিতে যৌথ অভিভাবকত্ব আইন কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে জাপান জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সর্বশেষ দেশ হিসেবে যৌথ কাস্টডিকে আইনি স্বীকৃতি দিল।
জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রায় ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ বিয়ে বিচ্ছেদে শেষ হয়েছে। ওই বছর এক লাখ ৬৪ হাজারের বেশি শিশু বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের প্রভাবের মধ্যে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইন শিশুদের বাবা-মা উভয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে একক অভিভাবকের ওপর চাপও কমবে।
তবে আইনটি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। নারী অধিকারকর্মী ও গৃহস্থালি সহিংসতার শিকার ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন, এতে অনেক নির্যাতিত মানুষ আবারও সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বাধ্য হতে পারেন।
তারো সুজুকি (ছদ্মনাম) নামে এক তরুণ জানান, ছোটবেলায় তিনি বাবার হাতে মায়ের ওপর নির্যাতন দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা এখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
তার মা রিয়ো (ছদ্মনাম) বলেন, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর তিনি আবারও উদ্বেগে ভুগছেন। তার আশঙ্কা, সাবেক স্বামী তাদের মেয়ের যৌথ অভিভাবকত্ব চাইতে পারেন।
তবে দেশটির আইনজীবীরা বলছেন, গৃহস্থালি সহিংসতা বা শিশুর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকলে আদালত যৌথ অভিভাবকত্ব দেবে না। যদিও সমালোচকদের প্রশ্ন, সব ক্ষেত্রে আদালত সঠিকভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারবে কি না।
সব বিতর্কের মধ্যেও ডেংয়ের মতো অনেক অভিভাবক নতুন এই আইনকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন। তাদের আশা, দীর্ঘদিন পর হলেও আবার সন্তানদের জীবনের অংশ হতে পারবেন তারা।










































