
ঈদযাত্রা নিরাপদ, সুগম ও নির্বিঘ্ন করতে একগুচ্ছ বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ, সুগম ও নির্বিঘ্ন করতে একগুচ্ছ বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক গণপরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রীসাধারণ এবং পথচারীদের জন্য এই নির্দেশনাগুলো দেয়া হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এসব নিয়ম মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা
বিজ্ঞপ্তিতে বাসমালিক ও শ্রমিকদের জন্য ১৪টি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বাস যাত্রার নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়তে হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। যাত্রীদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা যাবে না এবং একই সিট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া বাসের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, পণ্য ও পশুবাহী (বিশেষ করে ফিরতি) যানবাহনে যাত্রী বহন করা যাবে না। চালকদের বেপরোয়া গতি পরিহার করে গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে। ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু ব্রিজে ওভারটেকিং করা যাবে না।
চালকদের একটানা ৫ ঘণ্টা এবং দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না। গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার এবং গাড়িতে উচ্চস্বরে গান বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই উল্টো রাস্তায় গাড়ি চালানো যাবে না।
যাত্রীসাধারণের প্রতি ৬ দফা নির্দেশনা
যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বলা হয়েছে– সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টারে গিয়ে বাসে উঠতে হবে। বাস যাত্রার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টার বা টার্মিনালে হাজির হতে হবে। যাত্রাপথে অপরিচিত কারো দেয়া কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা যাবে না।
মালামাল নিজস্ব হেফাজতে ও দায়িত্বে রাখতে হবে। চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী বা পশুবাহী মোটরযানে যাত্রী হয়ে যাতায়াত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে হবে।
পথচারীদের জন্য নির্দেশনা
পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং, ফুট ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে বলা হয়েছে। রাস্তা পার হওয়ার সময় দৌড়ানো বা মোবাইলে কথা বলা যাবে না এবং সবাইকে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যাবে। পবিত্র ঈদযাত্রা সফল করতে ডিএমপি নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে।