রবিবার । মে ২৪, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ২৪ মে ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইন্টারনেটের চেহারা বদলে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা


AI google

এখন অনেকে গুগলে এমনভাবে প্রশ্ন লিখছেন, যেভাবে তারা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত বদলে দিচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরন। গুগল সার্চ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন কেনাকাটা থেকে তথ্য খোঁজার পদ্ধতি—সবখানেই বাড়ছে এআইয়ের প্রভাব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ এখন আগের মতো ছোট ছোট শব্দ লিখে সার্চ করছে না। বরং দীর্ঘ, নির্দিষ্ট এবং কথোপকথনের মতো প্রশ্ন করছে। এর ফলে গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের সার্চ সিস্টেমে বড় পরিবর্তন আনছে।

গুগল সার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি স্টেইন বলেন, ‘মানুষ এখন অনেক দীর্ঘ ও জটিল প্রশ্ন করছে, যার সরাসরি উত্তর ইন্টারনেটে সবসময় পাওয়া যায় না।’

সম্প্রতি গুগল এমন একটি নতুন ফিচার চালু করেছে, যেখানে সার্চের উত্তর হিসেবে শুধু লিংক নয়, বরং কাস্টম ভিজ্যুয়াল, ইন্টারঅ্যাকটিভ গ্রাফিক্স এমনকি ছোট অ্যাপও তৈরি করে দেখানো হবে। এসব তথ্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করে এআইয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল মানুষের সার্চ করার অভ্যাস বদলে দিয়েছে। এখন অনেকে গুগলে এমনভাবে প্রশ্ন লিখছেন, যেভাবে তারা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলেন।

এসইও ও মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান সেমরাশের তথ্য অনুযায়ী, ১১ শব্দ বা তার বেশি দীর্ঘ সার্চের সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে কথোপকথনের মতো সার্চও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘এআই মানুষকে নতুনভাবে সার্চ করতে শিখিয়েছে।’

তিনি জানান, আগে যেখানে মানুষ দুই-তিনটি শব্দ লিখে সার্চ করত, এখন তারা পাঁচ থেকে ১০ শব্দের বিস্তারিত প্রশ্ন করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে মানুষ তথ্য খোঁজার জন্য একসঙ্গে গুগল ও চ্যাটজিপিটির মতো এআই অ্যাপ ব্যবহার করছে। সাধারণ তথ্য বা কেনাকাটার জন্য গুগল ব্যবহার হলেও তুলনা করা, তথ্য সংক্ষেপ করা বা খসড়া লেখার কাজে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার বাড়ছে।

এআইয়ের প্রভাব এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্পষ্ট। ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয় হওয়া অনেক ইনফ্লুয়েন্সার আসলে বাস্তব মানুষ নন, বরং এআই দিয়ে তৈরি ভার্চুয়াল চরিত্র।

এদের মধ্যে অন্যতম আইতানা লোপেজ,ইনস্টাগ্রামে যার প্রায় চার লাখ অনুসারী রয়েছে। এছাড়া লিল মিকুয়েলা ও লু ডো মাগালুর মতো এআই চরিত্রও অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

গবেষণা বলছে, গত এক বছরে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্র্যান্ড এআই-নির্ভর কনটেন্ট নির্মাতাদের পেছনে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। কারণ বাস্তব তারকাদের তুলনায় এআই ইনফ্লুয়েন্সার পরিচালনা করা সহজ ও কম ব্যয়বহুল।

এদিকে অনলাইন কেনাকাটাতেও বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার। অ্যাডোবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এআইভিত্তিক সেবা থেকে মার্কিন খুচরা বিক্রির ওয়েবসাইটগুলোতে ট্রাফিক প্রায় ৩৯৩ শতাংশ বেড়েছে।

গুগল নতুন ‘ইউনিভার্সাল শপিং কার্ট’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পণ্য একসঙ্গে কেনা যাবে। অন্যদিকে অ্যামাজন তাদের এআই সহকারী ‘রুফাস’কে নতুন কেনাকাটার ফিচারে যুক্ত করেছে, যা পণ্যের দাম ও পণ্য সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও মানুষের তৈরি মানসম্মত ওয়েবসাইটের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। কারণ এআই এখনও তথ্য সংগ্রহের জন্য এসব ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভরশীল।

তবে গবেষণায় দেখা গেছে, গুগলের এআই-ভিত্তিক সারসংক্ষেপ দেখার পর ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় কম লিংকে ক্লিক করছেন। ফলে অনেক ওয়েবসাইটে ভিজিটর কমছে।

তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ দ্রুত বদলাচ্ছে এবং প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।