
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বিকেল চারটার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকার সিএমএম আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্তে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র জমা হওয়ার পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুনানির সময় দুই আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে আনা হলেও এজলাসে তোলা হয়নি।
এর আগে গত ২০ মে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিনে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর স্বপ্না আক্তার তাকে ফুঁসলিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতো দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
ভিতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ঘরের ভেতরে একটি বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, তার স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করেছেন। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে আলাদা করা হয়, যৌনাঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবেশীরা জড়ো হলে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।














































